তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৫ঃ কী পরিবর্তন এলো

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৫ঃ কী পরিবর্তন এলো এ নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন আসছে। অনেকে শুধু আইন পড়ে এই বিষয়টি সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা পাচ্ছেন না। তাই অনলাইনে বিশেষ করে গুগলে বিশ্লেষণমূলক আলোচনা খুজছেন। তাই আজকের আর্টিকেলে আমরা এ নিয়ে আলোচনা করব।

তামাক-নিয়ন্ত্রণ-আইন-২০২৫ঃ-কী-পরিবর্তন-এলো

আজকের আলোচনাটি বিশ্লেষণমূলক হওয়ায় পূর্ণ আইন নয় বরং এই আইনের কিছু দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে। আলোচনা করা হবে এই আইনে কোন দিক গুলো সংযোজন করা হলো আর এই সংযোজন এর প্রয়োজনীয়তা কি হতে পারে। আর এর কার্যকারিতা কতটুকু।

পেজ সূচিপত্রঃ তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৫ঃ কী পরিবর্তন এলো

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৫ঃ কী পরিবর্তন এলো

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৫ঃ কী পরিবর্তন এলো এটি সম্পর্কে জানতে হলে আজকে আমাদের আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভালোভাবে পড়ার অনুরোধ থাকবে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রথম প্রণিত হয় ২০০৫ সালে। এই আইন মূলত প্রণিত হয়েছিল তামাকজাত দ্রব্য যেমন বিড়ি, সিগারেট, জদ্দা, গুল সহ ইত্যাদি সকল তামাক জাত দ্রব্য ব্যবহার যাতে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেজন্য। কারণ ইসলাম ধর্ম ও ও বৈজ্ঞানিক ভাবে তামাকজাত দ্রব্য নিষিদ্ধ এবং এটি ক্ষতিকর।

ক্ষতিকর হওয়া সত্ত্বেও তামাকজাত দ্রব্য পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়নি কারণ এটি মানুষের শারীরিক ক্ষতি দ্রুত করে না। তবে দ্রুত ক্ষতি না করলেও এটি যেহেতু ক্ষতিকর তাই যদি এর সঠিক নিয়ন্ত্রণ না করা হয় তাহলে সমাজের মাঝে এর ব্যাপকতা বৃদ্ধি পাবে। আর এই নিয়ন্ত্রণের জন্যই প্রণিত হয় এই আইন। তবে সময়ের সাথে সাথে আইনের পরিবর্তনও জরুরি হয়েছে। তাই সর্বশেষ ২০২৫ সালে অধ্যাদেশ প্রণয়নের মাধ্যমে এই আইনের কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসা হয়েছে। 

ই-সিগারেট ব্যবহার ও বিক্রয় নিষিদ্ধ

ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ৭ ধারাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে পূর্বের আইনের ৬গ ধারা সন্নিবেশের মাধ্যমে আইন করা হয়েছে যে কোন ব্যক্তি ইলেক্ট্রনিক ডেলিভারি সিস্টেম যেমন ই- সিগারেট, ভ্যাপ ভ্যাপিং বা এগুলোর লিকুয়িট এগুলো যে নামই দেওয়া হোক, এই জাতীয় কিছুই ব্যবহার, ক্রয়-বিক্রয়, উৎপাদন করা যাবে না। যদি কেও করে তাহলে ৩ মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ২ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে।
যদি কোন ব্যক্তি একবার শাস্তি ভোগ করে এবং এই অপরাধ যদি আবারও করে তাহলে এর দিগুণ শাস্তি পাবে এবং আবার শাস্তিভোগের পর একই কাজ করলে আরো দিগুণ শাস্তি পাবে। আর যদি কেও এটি সেবন করে তাহলে ৫০০০ টাকা অর্থ দন্ডে দন্ডনীয় হবেন। এই সন্নিবেশের আগে ই-সিগারেট ব্যবহার বৈধ ছিল। কিন্তু সন্নিবেশ প্রণয়নের মাধ্যমে ই- সিগারেট ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক ইত্যাদি জায়গায় তামাক নিষিদ্ধ

ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ৭ ধারাতে ৬খ ধারা সন্নিবেশ করার মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ইত্যাদি জায়গার ১০০ মিটার দূরত্বের মাঝে তামাকজাতদ্রব্য বিক্রি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদি কেও বক্রি করা তার জন্য শাস্তির বিধান হলো, তিনি ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যদি এই অপরাধ শাস্তি ভোগ করার পর আবারও করেন তাহলে দ্বিগুণ শাস্তি পাবেন।
তামাক-নিয়ন্ত্রণ-আইন-২০২৫ঃ-কী-পরিবর্তন-এলো
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশে পাশে যদি তামাক বা তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করা হয় তাহলে এর প্রভাব পড়ে কিশোর বয়সী ছেলে মেয়েদের ওপর। অল্প বয়সে তারা ধূমপান শুরু করে এবং পরবর্তীতে আস্তে আস্তে তারা মাদকাসক্ত হয়ে যায়। আবার ক্লিনিক বা হসপাতাল এর আশে পাশে ধূমপান করা হলে রোগীদের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। ধারা ৬খ সন্নিবেশ করার মাধ্যমে এসব জায়গায় ধূমপান বা অন্য তামাকজাত দ্রব্য থেকে সকলে বেচে থাকবে।

কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ি নিষিদ্ধ

নতুন অধ্যাদেশের একই ধারা তে ৬ঘ ধারা সন্নিবেশ করার মাধ্যমে বিভিন্ন বিড়ি যেমন কুম্ভি পাতার বিড়ি ও টেন্ডু পাতার বিড়ি  ইত্যাদি উৎপাদন ক্রয় বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছেন। যদি কেও এটি লংঘন করে তাহলে তাকে ৩ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ২ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। সাধারণত সিগারেটের গোড়ায় নিকোটিন রোধক ফিল্টার থাকে। কোনো সিগারেটে বেশি কোয়ালিটি সম্পন্ন আবার কোনো সিগারেটে কম কোয়ালিটি সম্পন্ন। 
তাই নিকোটিন সরাসরি ফুস্ফুসে প্রবেশ করতে পারে না। কিন্তু বিড়িতে কোন ধরনের ফিল্টার ব্যবহার করা হয় না। এতে বিড়ি সেবনকারীর ফুস্ফুসে সরাসরি নিকোটিন প্রবেশ করে। এটি দ্রুত ক্যান্সার ডেকে আনতে পারে। বিশেষ করে কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার যত ধরণের বিড়ি আছে সব গুলোই স্বাস্থ্যের জন্য বেশি হুমকি ডেকে আনে। তাই ৬ঘ ধারা সন্নিবেশের মাধ্যমে এই বিড়ি সমূহকে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তামাকের সাথে আসক্তিমূলক দ্রব্য নিষিদ্ধ

উক্ত অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে তামাকের সাথে আসক্তিমূলক দ্রব্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই অধ্যাদেশের ৭ ধারায় ৬ঙ ধারা সন্নিবেশের মাধ্যমে আইন করা হয়েছে যে যদি কোনো ব্যক্তি তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যের সাথে ক্ষতিকর আসক্তিমূলক কোন দ্রব্য মিশ্রণ করে বা কাওকে দিয়ে করায় তাহলে সেটি একটি অপরাধ। আর যদি কেও এমন অপরাধ সংঘটিত করে তাহলে সে ৬ মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দন্ডতি হইবেন।

আর শাস্তি ভোগের পর যদি একই অপরাধ আবারো করে তাহলে তিনি ঐ শাস্তির দিগুণ শাস্তি ভোগ করবেন। আর আবারো যদি একই অপরাধ করে এভাবে আবারো দিগুণ শাস্তি ভোগ করবেন। এই ধারাটি সন্নিবেশ করার মাধ্যমে অসাধু তামাক ব্যবসায়ীগণ সতর্ক হবেন এবং যুবসমাজ কে যাতে আস্তে আস্তে মাদকাসক্তির দিকে নিয়ে যাওয়া না যায় সেজন্য একটি দেওয়ালএর মত কাজ করবে।

পাবলিক প্লেসে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

২০২৫ সালের সংশোধনী অধ্যাদেশ–এর মাধ্যমে পাবলিক প্লেসে ধূমপান সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর পরিবর্তন। এখন থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, আদালত, সরকারি ও বেসরকারি অফিস, গণপরিবহন, রেস্টুরেন্ট, শপিং মল, পার্ক ও অন্যান্য জনসমাগমস্থল–এ ধূমপান আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এই সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য হলো প্যাসিভ স্মোকিং থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া এবং একটি ধূমপানমুক্ত জনপরিসর (Smoke-Free Public Places) নিশ্চিত করা।
বিশেষ করে শিশু, নারী, রোগী ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এই বিধান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ থাকায় এ নিষেধাজ্ঞার বাস্তব প্রয়োগ আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়েছে। সব মিলিয়ে, পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধ করার এই পদক্ষেপ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, আইনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জরিমানার হার ও শাস্তির কঠোরতা বৃদ্ধি

২০২৫ সালের সংশোধনী অধ্যাদেশে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনের সবচেয়ে কার্যকর পরিবর্তনগুলোর একটি হলো জরিমানার হার বৃদ্ধি এবং শাস্তির কাঠামোকে আরও কঠোর করা। পূর্ববর্তী আইনে জরিমানার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম থাকায় আইন লঙ্ঘনের প্রবণতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছিল না। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার নতুন অধ্যাদেশে শাস্তির মাত্রা বাড়িয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী পাবলিক প্লেসে ধূমপানসহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য জরিমানার অঙ্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে আইন ভঙ্গ করা এখন আর একটি সামান্য বা তুচ্ছ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না;

বরং এটি বাস্তব আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নিয়মিত বা পুনরাবৃত্ত অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তির ভয় অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই কঠোরতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাৎক্ষণিক শাস্তি কার্যকর করার সুযোগ। ভ্রাম্যমাণ আদালত বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জরিমানা আরোপ করা গেলে আইন বাস্তবায়নে গতি আসে এবং জনগণের মধ্যে আইনের প্রতি ভীতি ও শ্রদ্ধা তৈরি হয়। ফলে আইন কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠপর্যায়ে কার্যকর আইন হিসেবে কাজ করে।

শাস্তির এই কঠোরতা মূলত শাস্তিমূলক নয়, প্রতিরোধমূলক (Preventive) দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রণীত। এর লক্ষ্য মানুষকে শাস্তি দেওয়া নয়; বরং ধূমপান নিরুৎসাহিত করা, জনস্বাস্থ্য রক্ষা করা এবং ধূমপানমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা। একই সঙ্গে এটি WHO Framework Convention on Tobacco Control (FCTC)–এর নির্দেশনার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। সার্বিকভাবে বলা যায়, জরিমানার হার ও শাস্তির কঠোরতা বৃদ্ধি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও কার্যকর, বিশ্বাসযোগ্য ও ফলপ্রসূ করেছে। দীর্ঘমেয়াদে এই ব্যবস্থা ধূমপানের হার কমানো, স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস এবং একটি সচেতন সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

লাইসেন্স বাতিল, জব্দ ও কোম্পানি পর্যায়ের শাস্তি

২০২৫ সালের সংশোধনী অধ্যাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও কার্যকর করতে লাইসেন্স বাতিল, পণ্য জব্দ এবং কোম্পানি পর্যায়ের শাস্তি–সংক্রান্ত বিধানকে জোরদার করা হয়েছে। পূর্ববর্তী আইনে যেখানে ব্যক্তিগত অপরাধীর ওপর শাস্তি কেন্দ্রীভূত ছিল, সেখানে নতুন অধ্যাদেশে প্রতিষ্ঠান ও কর্পোরেট সত্তাকেও সরাসরি দায়বদ্ধতার আওতায় আনা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যদি আইন লঙ্ঘন করে তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিক্রয় বা প্রচারণায় জড়িত থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত করা যেতে পারে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে ব্যবহৃত বা সংরক্ষিত তামাকজাত পণ্য জব্দ করার ক্ষমতা কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে, যা আইন বাস্তবায়নে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।

এই সংশোধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কোম্পানি পর্যায়ের শাস্তির বিধান। অর্থাৎ, শুধু কর্মচারী বা বিক্রেতা নয়, বরং কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পরিচালক বা ব্যবস্থাপককেও অপরাধের জন্য দায়ী করা যাবে। এর ফলে বড় তামাক কোম্পানিগুলো আর দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে না এবং কর্পোরেট জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। সার্বিকভাবে, লাইসেন্স বাতিল, জব্দ ও কোম্পানি পর্যায়ের শাস্তি–সংক্রান্ত এই বিধান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে ব্যক্তি-কেন্দ্রিক শাস্তির গণ্ডি পেরিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত নিয়ন্ত্রণের দিকে এগিয়ে নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি অবৈধ তামাক ব্যবসা কমানো, আইন মান্যতায় বাধ্য করা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

জাতীয় জনস্বাস্থ্য ও আন্তর্জাতিক চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্

২০২৫ সালের সংশোধনী অধ্যাদেশ প্রণয়নের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো জাতীয় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা জোরদার করা এবং বাংলাদেশের তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আন্তর্জাতিক চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে WHO Framework Convention on Tobacco Control (FCTC)–এর স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র; ফলে এই চুক্তির বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের একটি আন্তর্জাতিক দায়। নতুন সংশোধনীগুলোতে ধূমপানমুক্ত পাবলিক প্লেস, বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা নিষিদ্ধকরণ, শাস্তির কঠোরতা বৃদ্ধি এবং নতুন তামাকজাত পণ্যের নিয়ন্ত্রণ—এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সরাসরি FCTC–এর নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রণীত।
তামাক-নিয়ন্ত্রণ-আইন-২০২৫ঃ-কী-পরিবর্তন-এলো
এর ফলে বাংলাদেশের আইন আর কেবল অভ্যন্তরীণ নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য মানদণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে এই সামঞ্জস্য স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস, ধূমপানজনিত রোগ কমানো এবং স্বাস্থ্যব্যয়ের চাপ লাঘব করতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে শিশু, কিশোর ও ধূমপান না করা জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে এই আইন একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে। সার্বিকভাবে বলা যায়, জাতীয় জনস্বাস্থ্য ও আন্তর্জাতিক চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে ২০২৫ সংশোধনী অধ্যাদেশ তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও বৈশ্বিক মানসম্পন্ন আইনে রূপ দিয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে একটি স্বাস্থ্যবান ও সচেতন সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্যঃ তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৫ঃ কী পরিবর্তন এলো

 তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৫ঃ কী পরিবর্তন এলো এ নিয়ে আজকের আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। সার্বিকভাবে বলা যায়, ২০২৫ সালের সংশোধনী অধ্যাদেশ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনকে একটি আরও শক্তিশালী, বাস্তবমুখী ও জনস্বাস্থ্যবান্ধব আইনি কাঠামোতে উন্নীত করেছে। পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধকরণ, শাস্তির কঠোরতা বৃদ্ধি, কোম্পানি পর্যায়ের জবাবদিহিতা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য—এই সবকটি পরিবর্তন আইনটির কার্যকারিতা বহুগুণে বাড়িয়েছে।

তবে শুধু আইন সংশোধনই যথেষ্ট নয়; কার্যকর বাস্তবায়ন, নিয়মিত তদারকি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি না হলে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন সম্ভব হবে না। বিশেষ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্রিয় ভূমিকা এবং সাধারণ জনগণের সহযোগিতা এই আইনের সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবশেষে বলা যায়, এই সংশোধনী অধ্যাদেশ বাংলাদেশের জন্য একটি ধূমপানমুক্ত ও স্বাস্থ্যবান্ধব সমাজ গঠনের দৃঢ় অঙ্গীকার প্রতিফলিত করে। সঠিক প্রয়োগ ও সচেতনতার মাধ্যমে এই আইন ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, স্বাস্থ্যব্যয় হ্রাস এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আমিন একটিভ নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url